হালুয়াঘাটে আমতৈল ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ১৬ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, ব্যবস্থা চেয়ে ডিসিকে ইউএনওর চিঠি


প্রিয় হালুয়াঘাট |


ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার আমতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির চাল আত্মসাৎ, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থে অনিয়ম, কর্মসংস্থান কর্মসূচির টাকা আত্মসাৎ এবং ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতা বন্ধ রাখাসহ ১৬টি সুনির্দিষ্ট অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমদ।


যমুনা টেলিভিশনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আমতৈল ইউনিয়নের বাসিন্দা বৃষ্টিরানী দাসের নামে ভিডব্লিউবি কার্ড ইস্যু হলেও বরাদ্দের চাল নিয়মিত পাননি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে তাঁর নামে কার্ড ইস্যু করা হয়। সে হিসাবে ১৫ মাসে তাঁর নামে ৪৫০ কেজি চাল বরাদ্দ হওয়ার কথা।


এ ছাড়া অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রায় ২০ লাখ টাকার শ্রমিক তালিকায় শতাধিক শ্রমিকের মোবাইল নম্বর একই সিরিয়ালের বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় নাম থাকা এক চা বিক্রেতা দাবি করেছেন, তাঁর নামে বরাদ্দ থাকলেও তিনি প্রকল্পের কাজ বা টাকা পাননি।


প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক তদন্তে সাক্ষ্য দেওয়ার পর দুই ইউপি সদস্য সানাউল্লাহ ও মহর আলীর সম্মানী ভাতা ২০২৩ ও ২০২৪ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। পাশাপাশি সরকারি ভূমি উন্নয়ন কর জমা না দেওয়া, ধান-চাল ক্রয়ে অনিয়ম, কৃষি কর্মকর্তাকে হুমকি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমদ জানান, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য-প্রমাণসহ জেলা প্রশাসককে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।


চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের অনীহা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


সূত্র: যমুনা টেলিভিশন

নবীনতর পূর্বতন

نموذج الاتصال